ফুটবলের দুই তারকার তুলনা কখনো থামেনি। কিন্তু বিশ্বকাপ নকআউটের কঠিন ম্যাচে সক্ষমতার হিসেবে সি-রোনালদো ও মেসি একই স্তরে নেই। একটা কষ্টকর অথচ সত্য তথ্য হলো—ছয়বার বিশ্বকাপ খেলা রোনালদো ক্যারিয়ারে নকআউট পর্বে একটি গোলও করেননি। এটাই তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আর মেসির সমকক্ষ হওয়া কঠিন হওয়ার অন্যতম মূল কারণও এটাই।
রোনালদোর বিশ্বকাপ গোলগুলো যেন ‘গ্রুপ পর্বের বিশেষ সুবিধা’—গ্রুপে ঝলক, নকআউটে অদৃশ্য। তার পুরো বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে মোট ১০টি গোল, সবই গ্রুপ পর্বে। ইরান, উত্তর কোরিয়া বা ঘানার মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষই হোক, কিংবা ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে গ্রুপের তলানিতে থাকা উজবেকিস্তানের বিপক্ষেই হোক—উন্নীতিতে ভাগ্য নির্ধারণ করে না এমন গ্রুপ ম্যাচেই তিনি প্রায়ই দাপুটে খেলেন, পরিসংখ্যান বাড়ান, আলোচনায় থাকেন।
কিন্তু বিশ্বকাপ যখন নকআউটে উঠে জয়-পরাজয়ের লড়াইয়ে যায়, রোনালদো হঠাৎ ‘নিঃশব্দ’ হয়ে যান। সংখ্যা মিথ্যা বলে না—তিনি মোট ৮টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ খেলেছেন, ৫৭০ মিনিট মাঠে থেকেছেন, ২৯টি শট নিয়েছেন, আর ফল ০ গোল ০ অ্যাসিস্ট। ২০০৬-এ প্রথম বিশ্বকাপ থেকে আজকের ছয়বার অংশগ্রহণ পর্যন্ত পুরো বিশ বছরেও তিনি নকআউট গোলের খরা ভাঙতে পারেননি। গোলমুখে যতই শট নিক, গুরুত্বপূর্ণ কঠিন ম্যাচে তিনি গোল করতে পারেননি।
মেসির কাহিনি সম্পূর্ণ উল্টো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, নকআউটে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সংকটে সমতা, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ভুল গোল, ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দুই গোল—প্রতিটি গোলের দাম অপরিসীম; দলের উন্নীতন ও শিরোপা জয়ের ভিত্তি। মেসির গোল গ্রুপ পর্বে কেবল পরিসংখ্যান সাজানোর অলংকার নয়; বরং বিপদে দলকে বাঁচানো, উল্টে জয় আনার অস্ত্র।

সর্বশেষ আপডেট: 2026-07-14 12:15
